জ্যোতিষপীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী মুক্তেশ্বরানন্দের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মোদী দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে তাঁর করা একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিজেপি, বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এবং রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের কিছু নেতা এটিকে ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ বলে দাবি করলেও, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া পোস্টে শঙ্করাচার্য দাবি করেন, একদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও ভারত ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতের আশ্রয় নেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় লেখেন, যেভাবে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে মোদীর ক্ষেত্রেও নাকি একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এরপর ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি আরও লেখেন, “তাঁকে গালাগালি করবেন না, তিনি রাজনৈতিক নন”, যা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ে।
এই মন্তব্য সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ঝড় ওঠে। বিজেপির একাধিক নেতা দাবি করেছেন, দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং উসকানিমূলক। তাঁদের বক্তব্য, একজন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে এমন রাজনৈতিক মন্তব্য কোনওভাবেই প্রত্যাশিত নয়। কয়েকটি সংগঠন ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছে।অন্যদিকে, শঙ্করাচার্যের সমর্থকদের একাংশের দাবি, তিনি নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন এবং গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেকেরই মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, একজন ধর্মীয় নেতার উচিত রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে দূরে থাকা। কারণ, তাঁর বক্তব্য বহু মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং তা সমাজে অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই ইস্যুতে মতভেদ স্পষ্ট।
কেউ শঙ্করাচার্যের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার অনেকেই তাঁর কড়া সমালোচনা করেছেন। বহু নেটিজেন পাল্টা পোস্ট করে তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় গুরুদের রাজনৈতিক মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত।বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এমনিতেই অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। সেই প্রসঙ্গ টেনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এমন মন্তব্য করায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আগামী দিনেও অব্যাহত থাকতে পারে।