কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে কর্নাটকে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বুধবার বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অশান্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক বি.পি. হরিশ-এর ওপর ডিম ছোড়া এবং শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে দুই দলের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি বিধায়ক বি.পি. হরিশের অভিযোগ, তিনি কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (KPCC) কার্যালয়ের সামনে পৌঁছতেই একদল কংগ্রেস কর্মী তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এরপর তাঁর মাথা লক্ষ্য করে একটি ডিম ছোড়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি কয়েকজন তাঁকে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরও করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপিও রাস্তায় নামে। কর্নাটক বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর. অশোক-এর নেতৃত্বে বিজেপি বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে। পরে পুলিশ তাঁকে-সহ একাধিক বিজেপি নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মুক্তি পাওয়ার পর আর. অশোক পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস কর্মীরা লাঠি ও লোহার রড নিয়ে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এমনকি আটক বিজেপি কর্মীদের বহনকারী পুলিশের বাসেও হামলার চেষ্টা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।অন্যদিকে, কংগ্রেসের আন্দোলনের মূল বিষয় ছিল নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি। কর্নাটক যুব কংগ্রেসের সভাপতি এইচ. এস. মঞ্জুনাথ গৌড়া-র নেতৃত্বে বড় মিছিল বের হয়। পরে আন্দোলনকারীরা বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরের দিকে এগোতে গেলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। সেই সময়ও উত্তেজনা ছড়ায় এবং একাধিক কংগ্রেস কর্মীকে পুলিশ আটক করে।
পুরো ঘটনায় বেঙ্গালুরু পুলিশ জানিয়েছে, বিজেপি নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা তদন্তের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এই ঘটনার পর বেঙ্গালুরুর রাজনৈতিক পরিবেশ যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে কংগ্রেস তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড়। ফলে আগামী দিনে এই ঘটনাকে ঘিরে কর্নাটকের রাজনীতিতে আরও উত্তেজনা বাড়তে পারে।