উত্তরপ্রদেশে নবদম্পতিদের উপহারের গদি ঘিরে শুরু তুমুল বিতর্ক। যোগী সরকারের অনুষ্ঠানে কীভাবে পৌঁছে গেল ‘TMC’ লেখা গদি? তদন্তে নেমেই কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের। বিয়ের উপহার খুলতেই চমক! গদিতে দেখা গেল তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুলের মতো প্রতীক, উত্তাল রাজনীতি। সরকারি গণবিবাহে বড় গাফিলতি নাকি ষড়যন্ত্র? গদিতে তৃণমূলের ছাপ ঘিরে চাঞ্চল্য গোটা দেশে।
উত্তরপ্রদেশের একটি সরকারি গণবিবাহ কর্মসূচিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। নবদম্পতিদের উপহার হিসেবে দেওয়া গদির কভারে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) নাম এবং দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’-এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নকশা দেখা যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। ইতিমধ্যেই এক সরকারি কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, আরও দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি গদি সরবরাহকারী সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) করা হয়েছে এবং থানায় এফআইআরও দায়ের হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪ জুলাই উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলায়। ‘মুখ্যমন্ত্রী গণবিবাহ যোজনা’-র আওতায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে শত শত নবদম্পতির হাতে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু পরে অভিযোগ ওঠে, উপহার হিসেবে দেওয়া কিছু গদির কভারে ‘TMC’ লেখা রয়েছে এবং তার সঙ্গে ঘাসের ওপর জোড়াফুলের মতো একটি প্রতীক ছাপা হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনের অন্দরে তৎপরতা শুরু হয়। সরকারি সূত্রের খবর, উপহার বিতরণের দায়িত্বে থাকা জেলা সহকারী উন্নয়ন কর্মকর্তাকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি এক গ্রামোন্নয়ন আধিকারিকের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উন্নাও জেলার সমাজকল্যাণ আধিকারিকের কাছেও ব্যাখ্যা তলব করেছেন জেলাশাসক।
উন্নাওয়ের জেলাশাসক ঘনশ্যাম মীনা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা (CDO)-র নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটিতে অতিরিক্ত জেলাশাসক (অর্থ ও রাজস্ব), সিনিয়র ট্রেজারি আধিকারিক এবং উপ-আয়ুক্ত (শিল্প)-কেও রাখা হয়। তদন্ত শেষে কমিটি জানায়, মোট ৪৫৯টি দম্পতির বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রত্যেককে দুটি করে গদি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মোট ৯১৮টি গদির মধ্যে মাত্র এক বা দুটি গদির কভারে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নকশা পাওয়া গিয়েছে।
জেলার প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা ক্রাতি রাজ জানান, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। তিনি বলেন, গদির কভারে ‘TMC’ লেখা এবং জোড়াফুলের মতো প্রতীক দেখা গেলেও রঙের বিন্যাস তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারি পতাকার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তবুও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত করা হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের দাবি, সরকারি অনুষ্ঠানে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতীক বা প্রচারসামগ্রীর মতো কিছু ব্যবহার হওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তাই ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই গদি সরবরাহকারী সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং গোটা সরবরাহ প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কীভাবে সরকারি প্রকল্পের উপহারসামগ্রীর মধ্যে এমন নকশাযুক্ত গদি এল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।