পুলিশের হাতে মেলোডি চকোলেট! SFI-এর অভিনব প্রতিবাদ

দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুব (SFI) আন্দোলনের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের আবহে দেশজুড়ে একাধিক নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করল স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SFI)। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, ২৫ ও ২৬ জুলাই দেশজুড়ে প্রতীকী কর্মসূচির অংশ হিসেবে পুলিশ কর্মীদের ‘মেলোডি’ চকোলেট দেওয়া হবে। পাশাপাশি ছাত্র ধর্মঘট, রাতভর প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং স্বাধীন তদন্তের দাবিতেও সরব হয়েছে সংগঠন।

এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য জানান, ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা ছাত্র-যুব আন্দোলনের সময় যে পুলিশি পদক্ষেপ হয়েছে, তার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি ‘পিপলস কমিশন’ গঠন করা হবে। তাঁর দাবি, এই কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সেখানে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিরাও থাকতে পারেন। কমিশনের উদ্দেশ্য হবে ২০ জুলাইয়ের ঘটনায় কী ঘটেছিল এবং কেন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা।

সৃজন ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, ২২ জুলাই থেকে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচার অভিযান শুরু হয়েছে। আন্দোলনের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, ২০ জুলাইয়ের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) নিয়ে পুনর্বিবেচনা, জাতীয় শিক্ষানীতির পর্যালোচনা এবং নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি।এসএফআই আরও জানিয়েছে, ২৩ জুলাই বিভিন্ন রাজভবন এবং কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপের দাবিও জানানো হয়েছে।

সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৪ জুলাই দেশজুড়ে ছাত্র ধর্মঘট পালন করা হবে। সেই রাতেই ‘রাত জাগো, দেশ জাগো’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসএফআইয়ের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতীকীভাবে যন্তর মন্তরের আদলে প্রতিবাদ মঞ্চ তৈরি করে ছাত্র-যুবদের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি পালন করা হবে।এরপর ২৫ ও ২৬ জুলাই দেশজুড়ে পুলিশ কর্মীদের ‘মেলোডি’ চকোলেট দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের দাবি, এটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, যার মাধ্যমে আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।

উল্লেখ্য, দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান। এই আবহেই এসএফআইয়ের নতুন কর্মসূচিগুলি রাজনৈতিক ও ছাত্রমহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment