চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই মুহূর্তে তাঁর বিদেশযাত্রায় অনুমতি দেয়নি আদালত। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আগে এসএসকেএম হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হবে। সেই মেডিক্যাল রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ার পরই বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সোমবার ডিজে মামলার শুনানির সময় অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতের কাছে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চান। তিনি জানান, গত প্রায় দশ বছর ধরে আমেরিকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে অভিষেকের চোখের নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। সেখানে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরীক্ষা ও চিকিৎসা করানো হয়। সেই কারণেই এবারও বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানতে চান, কলকাতার কোনও বিশেষজ্ঞ চক্ষু হাসপাতালে অভিষেক চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েছেন কি না। জবাবে আইনজীবী বিদেশে দীর্ঘদিন চিকিৎসার বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর আদালত জানিয়ে দেয়, এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হবে। ওই বোর্ডের রিপোর্টে যদি বলা হয় যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কলকাতায় সম্ভব নয়, তাহলেই বিদেশে যাওয়ার আবেদন আদালত বিবেচনা করবে।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অভিষেকের বিদেশযাত্রার আবেদনকে বিরোধিতা করা হয়। অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে দাবি করেন, শুধু ডিজে মামলাই নয়, আরও একাধিক মামলায় অভিষেকের নাম রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে তদন্তের কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এদিকে আদালতে জানানো হয়, বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আগেই একটি পৃথক আবেদন করা হয়েছে। যদিও সেই মামলায় দ্রুত শুনানির আবেদন আগে খারিজ হয়েছিল। বিচারপতি জানান, ওই আবেদনের শুনানি আগামী আগস্ট মাসে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের অক্টোবরে মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় ফেরার পথে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে চোখে আঘাত পান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় থেকেই নিয়মিত বিদেশে তাঁর চোখের চিকিৎসা চলছে বলে আদালতে দাবি করেন তাঁর আইনজীবী। এদিন ডিজে মামলাতেও অভিষেক কিছুটা স্বস্তি পান। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পুলিশি পদক্ষেপে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে এবং পুলিশকেও দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই আদালতের নির্দেশে বিধাননগর আদালতে তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়।