বাংলায়ও কি আসছে ‘ড্রাই স্টেট’ নীতি ? বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কের দাবিতে শুরু নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধের জোরালো দাবি তুললেন বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফা।
পশ্চিমবঙ্গেও বিহারের মতো সম্পূর্ণভাবে মদ বিক্রি বন্ধ করার দাবি তুললেন ভাতারের বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফা। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সমাজের স্বার্থে এবং আগামী প্রজন্মকে নেশার কবল থেকে বাঁচাতে রাজ্য সরকারকে মদ বিক্রি বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবা উচিত।শুধু মদ নিষিদ্ধ করার দাবিই নয়, এদিন খেলাধুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও জোরালো সওয়াল করেন সৌমেন কার্ফা। তাঁর মতে, গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র খেলাধুলার আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা গেলে যুবসমাজের বড় একটি অংশ ইতিবাচক কাজে যুক্ত হবে এবং নেশা বা অন্য অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে।এছাড়াও তিনি রাজ্যে লটারি খেলা বন্ধ করারও দাবি জানান। বিধায়কের বক্তব্য, লটারির নেশায় বহু সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হচ্ছে। তাই জনস্বার্থে লটারি ব্যবসার উপরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তবে বিধানসভায় সৌমেন কার্ফার এই দাবি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম বড় রাজস্বের উৎস হল আবগারি শুল্ক এবং মদ বিক্রি থেকে প্রাপ্ত আয়। প্রতিবছর এই খাত থেকে রাজ্যের কোষাগারে হাজার হাজার কোটি টাকা জমা পড়ে। সেই অর্থ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও সরকারি পরিষেবায় ব্যয় করা হয়। ফলে সম্পূর্ণভাবে মদ বিক্রি বন্ধ করলে রাজ্যের আর্থিক কাঠামোর উপর তার কী প্রভাব পড়বে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।উল্লেখ্য, প্রতিবেশী বিহারে ২০১৬ সাল থেকে সম্পূর্ণ মদ নিষিদ্ধ নীতি কার্যকর রয়েছে। তবে সেই নীতি নিয়ে একাধিক বিতর্কও হয়েছে।
একদিকে মদ্যপান কমানোর দাবি উঠলেও, অন্যদিকে বেআইনি মদের কারবার, পাচার এবং বিষাক্ত মদে মৃত্যুর মতো ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে বিহারের মডেল বাংলায় কার্যকর করা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে।বিধানসভায় সৌমেন কার্ফার এই মন্তব্যের পর শাসকদল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যের অর্থনীতি, রাজস্ব আদায় এবং সামাজিক প্রভাব— সবদিক বিবেচনা করেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। ফলে বিজেপি বিধায়কের এই দাবি আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, নাকি তা শুধুই রাজনৈতিক বার্তা হয়ে থাকবে, সেটাই এখন দেখার।