আন্দোলনের আঁচ এবার শিক্ষামন্ত্রীর পরিবারে! ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলেন মেয়ে।নিট বিতর্কে নতুন মোড়! সোশ্যাল মিডিয়ার চাপে বড় সিদ্ধান্ত শিক্ষামন্ত্রীর কন্যার।ধর্মেন্দ্র প্রধানের মেয়েকে ঘিরে অনলাইন বিতর্ক! কোথায় থামবে ট্রোলিং?নীতির প্রতিবাদ নাকি ব্যক্তিগত আক্রমণ? নতুন বিতর্কে সরগরম নেটদুনিয়া।ইনস্টাগ্রাম ডিঅ্যাক্টিভ করলেন নৈমিষা! সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা।আন্দোলন থেকে সোশ্যাল মিডিয়া— এবার বিতর্কের কেন্দ্রে শিক্ষামন্ত্রীর পরিবার।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে ঘিরে দেশজুড়ে আন্দোলন আরও তীব্র হচ্ছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা লাগাতার বিক্ষোভ ও অনশন ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছেন। এই আবহেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে শিক্ষামন্ত্রীর পরিবারের এক সদস্যের নাম।জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মেয়ে নৈমিষা প্রধান তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, আন্দোলন ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বিপুল সংখ্যক মন্তব্য ও সমালোচনা জমা পড়ার পরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে তাঁর নামে আগের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি আর দেখা যাচ্ছে না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, দেশের শিক্ষামন্ত্রীর মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন। সেই বিষয়টি নিয়েই তাঁর পোস্টের মন্তব্যের ঘরে নানা সমালোচনা শুরু হয়। শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেই নয়, তিনি যে টাফটস ইউনিভার্সিটি-তে পড়াশোনা করেছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের সোশ্যাল মিডিয়া পাতাতেও অনেকে মন্তব্য করতে শুরু করেন। সেখানে তাঁর বিদেশে পড়াশোনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।উল্লেখ্য, নৈমিষা প্রধান ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ইউনিভার্সিটির দ্য ফ্লেচার স্কুল থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর (LL.M.) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি US–India Strategic Partnership Forum (USISPF)-এ সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই তথ্য সামনে আসার পর কিছু নেটিজেন দাবি করেন, যদি দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরাই বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেন, তাহলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। যদিও এই মতের সঙ্গে সবাই একমত নন।
অন্যদিকে, বহু মানুষ আবার এই ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, নৈমিষা প্রধান কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন এবং তিনি সরকারের নীতিনির্ধারণের সঙ্গেও যুক্ত নন। তাই রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করে অনলাইনে ট্রোল করা বা হেনস্থা করা উচিত নয়।এদিকে নিট বিতর্ক নিয়ে বিরোধী দলগুলি এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধান বারবার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, বিরোধীরা শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আন্দোলন করছে এবং বিষয়টিকে অযথা বিতর্কিত করে তুলছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে— জনজীবনে থাকা কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পরিবারের সদস্যদের কতটা ব্যক্তিগত পরিসর থাকা উচিত এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের সীমা কোথায় শেষ হওয়া উচিত। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, জনপ্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত বা নীতির সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও, সেই কারণে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করে অনলাইনে হেনস্থা করা গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে নিট আন্দোলনের পাশাপাশি এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ নিয়েও নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।