অরিজিৎ জিয়াগঞ্জে ফিরলেই বিক্ষোভ’।একটি পোস্টেই তোলপাড় রাজনীতি!ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতেই অরিজিৎকে ঘিরে বিতর্ক!বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু তুমুল বাকযুদ্ধ।
ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। সেই পোস্টকে ঘিরেই এবার নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। আর সেই বিতর্ক আরও উসকে দেন জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায়। তাঁর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে এখন সরগরম রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে নেটদুনিয়া।
সম্প্রতি আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উদ্দেশে এক বিজেপি নেতার “ককরোচ” বা “আরশোলা” মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই মন্তব্যের প্রতিবাদে রাস্তায় নামা ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও ধরপাকড়ের একাধিক ভিডিওও সামনে আসে। সেই ঘটনাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন অরিজিৎ সিং। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, “বাহ! উর্দির আড়ালে গুণ্ডার মতো আচরণ। আপনাদের কি কোনও লজ্জা নেই? নেতামন্ত্রীরা কি নিজেদের ঈশ্বর ভাবা শুরু করেছেন?” তাঁর এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিভিন্ন মহলে শুরু হয় জোর আলোচনা।
অরিজিতের এই পোস্টের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একাংশ তাঁর সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, একজন শিল্পী হিসেবে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মত প্রকাশ করার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে। আবার অন্যদিকে বিজেপি সমর্থকদের একাংশ তাঁর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। কেউ তাঁকে “দেশদ্রোহী”, কেউ “চিনের দালাল” বলেও কটাক্ষ করতে শুরু করেন। সেই বিতর্কের মাঝেই জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায় একটি পোস্ট করেন, যা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
বিধায়কের পোস্টে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় লেখা হয়, “অরিজিৎ জিয়াগঞ্জে ফিরলেই বিক্ষোভ হবে।” এই মন্তব্য সামনে আসতেই নেটমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন জনপ্রিয় শিল্পীর মতপ্রকাশের জবাবে এ ধরনের রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি কতটা গ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে বিজেপি সমর্থকদের একাংশ বিধায়কের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে দাবি করেন, জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলে তার প্রতিবাদ হওয়াই স্বাভাবিক।তবে অরিজিৎ সিং এখনও পর্যন্ত এই বিতর্ক নিয়ে নতুন করে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। তিনি নিজের আগের পোস্টও মুছে ফেলেননি। বরং তাঁর সমর্থকদের দাবি, অরিজিতের বক্তব্য ছিল পুলিশের আচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে। সেটিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অরিজিতের সমর্থনে একাধিক হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করতে শুরু করেছে। বহু শিল্পী, লেখক, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সরব হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনও শিল্পী বা নাগরিক সরকারের কোনও পদক্ষেপের সমালোচনা করতেই পারেন। সেটিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা রাজনৈতিক হুমকির মাধ্যমে মোকাবিলা করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।অন্যদিকে বিজেপির তরফে দাবি করা হচ্ছে, অরিজিৎ সিং একতরফা মন্তব্য করে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, কোনও ঘটনার সম্পূর্ণ তথ্য না জেনে এ ধরনের মন্তব্য করা একজন জাতীয় স্তরের শিল্পীর ক্ষেত্রে কাম্য নয়।সব মিলিয়ে, ছাত্র আন্দোলন, “ককরোচ” মন্তব্য এবং অরিজিৎ সিংয়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে।