দম থাকলে ২০২৯-এ ডায়মন্ড হারবারে লড়ুন’— অভিষেককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

August 8, 2026 9:42 AM
---Advertisement---

পুরনো হুঁশিয়ারির জবাব নতুন চ্যালেঞ্জে! ডায়মন্ড হারবারকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি শুভেন্দু-অভিষেক! “দম থাকলে ডায়মন্ড হারবার থেকেই লড়ুন!”— অভিষেককে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের চড়ল উত্তাপ। তৃণমূল (কালীঘাট)-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ১০ কোটি টাকার আইনি নোটিশ পাঠানো প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শুভেন্দু নাম না ঘুরিয়ে অভিষেককেই নিশানা করেন। তাঁর বক্তব্য, অতীতে অভিষেক বহু বড় বড় কথা বলেছেন, কিন্তু তিনি সেই সব মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে চান না। বরং একটাই কথা বলতে চান— “ওর বাপের নাম যদি ঠিক থাকে, তাহলে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার থেকেই লড়ুক।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

এই মন্তব্য শুধু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া নয়, বরং কয়েক বছর আগের এক তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতেরও স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কাঁথির এক জনসভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় নিশানা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তিনি প্রকাশ্য সভা থেকে বলেছিলেন, “তোর বাপকে গিয়ে বল, তোর বাড়ির পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি। যা করার কর। আয়, হিম্মত আছে?” একই সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “চার আনার নকুলদানা, তার আবার ক্যাশমেমো। আমায় থ্রেট দিচ্ছে!” সেই বক্তব্য সে সময় রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

তবে ২০২১ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটেই এবার অভিষেককে নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তিনি।

শুভেন্দুর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল, একসময় যে ডায়মন্ড হারবারকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অজেয় রাজনৈতিক ঘাঁটি বলে মনে করা হত, সেই জায়গার রাজনৈতিক ছবিও এখন বদলে গিয়েছে। তাঁর দাবি, লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একাধিক বিধানসভা আসনে তৃণমূল আগের অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। পাশাপাশি, অভিষেকের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি মামলার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ডায়মন্ড হারবারের মানুষ এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সাক্ষী, তাই ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেখান থেকেই লড়ে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেওয়া উচিত অভিষেকের।

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির মতে, এটি শুভেন্দু অধিকারীর আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ এবং আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগাম বার্তা। অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের দাবি, এটি শুধুই রাজনৈতিক প্রচারের অংশ এবং বিরোধী শিবিরকে উসকে দেওয়ার কৌশল।

ডায়মন্ড হারবার দীর্ঘদিন ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন নজর থাকবে, এই চ্যালেঞ্জের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর দল কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে এই রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

সম্পর্কিত পোস্ট