একই মন্ত্রিসভার দুই প্রাক্তন সহকর্মী এবার মুখোমুখি বৈঠকে বসেন শুভেন্দু অধিকারী ও ফিরহাদ হাকিম। নবান্নে বৈঠক ঘিরে রাজনীতির পাশাপাশি উঠে আসে পুরনো দিনের নানা স্মৃতি, এমনকি আলোচনায় আসে প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের নামও। বৈঠক শেষে শুভেন্দুর আন্তরিকতা ও সৌজন্যমূলক ব্যবহারের প্রশংসা করেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, এমন আন্তরিকতা তিনি আগে দেখেননি। এদিকে এসআইআর ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।
নব তৃণমূলের বিধায়কদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠক ঘিরে শুক্রবার নবান্নে ছিল বাড়তি রাজনৈতিক কৌতূহল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা নিয়ে এমন মন্তব্য করলেন তিনি, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক সময় একই রাজনৈতিক দলে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। শুধু দলীয় সহকর্মীই নন, একই মন্ত্রিসভাতেও দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন দু’জনে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তাঁদের পথ আলাদা হয়েছে। কিন্তু শুক্রবার নবান্নের বৈঠকে সেই পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কের অনেকটাই যেন ফিরে এল আলোচনায়।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রীর আন্তরিকতার প্রশংসা করে ফিরহাদ হাকিম বলেন, তিনি জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মুখ্যমন্ত্রীদের দেখেছেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর মতো আন্তরিকতা তিনি আগে দেখেননি। তাঁর কথায়, বিধানচন্দ্র রায়ও নাকি এই ধরনের আন্তরিক ছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। ফিরহাদের এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
সূত্রের খবর, প্রায় এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিট ধরে নবান্নে বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়-সহ একাধিক বিধায়ক। আলোচনায় উঠে আসে তাঁদের নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা এবং উন্নয়নের বিষয়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের এলাকার মানুষের স্বার্থে উন্নয়নমূলক কাজে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও সূত্রের খবর।
বৈঠকের মাঝেই পুরনো রাজনৈতিক দিনের কিছু কথাও উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। কেন দল ছাড়তে হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গও অল্প সময়ের জন্য আলোচনায় আসে। পাশাপাশি প্রয়াত নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের নামও কথোপকথনে উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। তবে মূলত বৈঠকটি ছিল এলাকার সমস্যা, প্রশাসনিক কাজ এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা কেন্দ্রিক।
বৈঠকে উপস্থিত এক বিধায়কের কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন আন্তরিক ব্যবহার পেয়ে তাঁরা খুশি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এলাকার উন্নয়নের কাজে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই বার্তাই মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিনের বৈঠকে এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিধায়ক আখরুজ্জামান জানান, তাঁরাও চান ভোটার তালিকায় কোনও অবৈধ ভোটারের নাম না থাকুক। কিন্তু একইসঙ্গে কোনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়, সেটাও নিশ্চিত করা জরুরি। এই বিষয়েই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
আখরুজ্জামানের দাবি, অনেক মানুষ এখনও এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ রয়েছেন বলে তাঁদের দাবি। এই মানুষদের বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে বৈধ ভোটারদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা হবে এবং তাঁর সদিচ্ছা রয়েছে।
সব মিলিয়ে শুক্রবারের নবান্নের বৈঠক শুধু রাজনৈতিক আলোচনা নয়, সৌজন্য এবং পুরনো সম্পর্কের কথাও সামনে নিয়ে এসেছে।








