তৃণমূল-তৃণমূল বিস্ফোরণ! দলেরই বিধায়ক মদন মিত্রকে ১০ কোটি টাকার মানহানির নোটিশ অভিষেকের। দুই ধরনের আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি।৭২ ঘণ্টার মধ্যে চাইতে হবে নিঃশর্ত ক্ষমা। সঙ্গে করতে হবে ভিডিও।এবার কি করবেন মদন মিত্র?
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের পর্যায়ে পৌঁছে গেল। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে দলেরই প্রবীণ নেতা ও কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শুধু নোটিশই নয়, সেখানে ১০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই দাবি পূরণ না হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি—দুই ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্রবণা সেনগুপ্ত ই-মেলের মাধ্যমে এই আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই ২০২৬ মদন মিত্র তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি লাইভ সম্প্রচার করেন। সেই লাইভে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে একাধিক মন্তব্য করা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিদ্বেষমূলক এবং মানহানিকর বলে দাবি করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই লাইভের প্রায় ৬ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের সময় মদন মিত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে “অপরাধী” এবং “খুনি” বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে সুপারি কিলার ব্যবহার-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগও তোলা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। অভিষেকের পক্ষের বক্তব্য, এই অভিযোগগুলির কোনও বাস্তব বা আইনি ভিত্তি নেই। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ। নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, ফেসবুক লাইভটি সম্প্রচারের পর তা দ্রুত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সম্মান, রাজনৈতিক মর্যাদা এবং জনসমক্ষে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি এবং জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মদন মিত্রকে অবিলম্বে ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে লিখিত বিবৃতি এবং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। শুধু ক্ষমা চাওয়াই নয়, মানহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা দেওয়ারও দাবি করা হয়েছে।তবে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যাবে না বলেও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে। দাবি করা হয়েছে, এই অর্থ একটি নিবন্ধিত ট্রাস্টে জমা রাখা হবে। সেই ট্রাস্টের মাধ্যমে দলত্যাগী জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই পরিচালনা করা এবং রাজনৈতিক হিংসার শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের আইনি ও পুনর্বাসনমূলক সহায়তায় এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।আইনি নোটিশে আরও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি মদন মিত্র নোটিশের শর্তগুলি পূরণ না করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি—উভয় ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে এই ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।