ধর্মতলার সংঘর্ষে নতুন মোড়। এপি’দের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক বিকাশরঞ্জন।

‘ককরোচ’ আন্দোলনের আড়ালে বড় ষড়যন্ত্র? ধর্মতলার সংঘর্ষে নতুন মোড়! ধর্মতলায় অশান্তির নেপথ্যে কারা? ছাত্র আন্দোলন ভাঙতেই কি ঢোকানো হয়েছিল ‘এপি’দের? এপি’দের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বিকাশরঞ্জনের।

নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের আঁচ এবার স্পষ্টভাবে পৌঁছে গেল কলকাতার রাজপথেও। দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যখন তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, ঠিক সেই সময় কলকাতার ধর্মতলায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ। আর এই ঘটনার পরেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে কলঙ্কিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ‘এজেন্ট প্রোভোকেটর’ বা ‘এপি’দের ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

কাজের দিনের ব্যস্ত সন্ধ্যায় ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে সিজেপি (CJP) এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির যৌথ মিছিল পৌঁছাতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ মিছিল আটকানোর চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীদের একাংশের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, এরপরই পুলিশের দিকে বোতল, জুতো-সহ বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। দীর্ঘক্ষণ ধরে ধস্তাধস্তি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং উত্তেজনার জেরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ধর্মতলা। অফিস ফেরত সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তির শিকার হন।

এই ঘটনার পরই নিজের ফেসবুক পোস্টে সরব হন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি লেখেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এবং বিভিন্ন গণআন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, অনেক সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু লোক ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এদের উদ্দেশ্য আন্দোলনকে হিংসাত্মক রূপ দেওয়া, যাতে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পায় এবং আন্দোলনের মূল দাবি আড়ালে চলে যায়।

এই প্রসঙ্গেই তিনি ব্যবহার করেন ‘এজেন্ট প্রোভোকেটর’ বা সংক্ষেপে ‘এপি’ শব্দটি। রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘এপি’ বলতে এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়, যারা কোনও আন্দোলন বা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে গোপনে ঢুকে উসকানিমূলক কাজ করে পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে। তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে আন্দোলনের চরিত্র বদলে যায় এবং প্রশাসনের পক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যুক্তি তৈরি হয়। বিকাশরঞ্জনের অভিযোগ, ধর্মতলার ঘটনাতেও এমন কৌশল ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করেননি; এটি তাঁর পর্যবেক্ষণ ও আশঙ্কা বলেই উল্লেখ করেছেন।

তিনি ছাত্র-যুব নেতৃত্বকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আন্দোলনের ভেতরে কারা ঢুকছে, কারা উসকানিমূলক আচরণ করছে, সে বিষয়ে নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, একটি বৃহৎ ছাত্র আন্দোলনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি তৈরি করা হতে পারে।

এদিকে শুধু রাজপথেই নয়, এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন আইনজীবীরাও। নয়াদিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ‘বি’ গেট থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মিছিলে দলমত নির্বিশেষে বহু আইনজীবী অংশ নেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে সিটি সিভিল কোর্টে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। সেই অধিকার খর্ব করে পুলিশি দমননীতি গ্রহণ করা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক বার্তা বহন করে। তাঁদের বক্তব্য, ছাত্রদের কণ্ঠরোধ করে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাই গণতান্ত্রিক পথ।